ঢাকা, শনিবার ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়ায় পরকীয়ায় হত্যাপ্রায় ১ বছর পর লাশ উদ্ধার গ্রেফতার -৪

 নিউজ রুমঃ Bijoy Bangla BD 24. COM

 প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২০, ৭:৪০

৪৩৩ বার পঠিত

বিজয় বাংলা ডেস্ক: বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার রানীরপাড়া গ্রামে ১১ মাস আগে ‘নিখোঁজ’ হন কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪৭)। ওই সময় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডি সূত্রে শুরু হয় তদন্ত,পরে জানা গেলো রফিকুল নিখোঁজ ছিলেন না; খুন হয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক পুলিশের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ননা দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রেললাইনের পাশে জলাবদ্ধ কৃষিজমি থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।ঘটনা বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার, গ্রামের নাম রাণীরপাড়া। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় রফিকুলের স্ত্রী রেহেনা খাতুন (৩৭), তার ছেলে জসিম (১৮), বোনের ছেলে শাকিল (২১) ও পরকীয়া প্রেমিক মহিদুল ইসলামকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মহিদুলের বাড়ি নিহত রফিকুলের বাড়ির পাশেই। শাকিলের বাড়ি উপজেলার তেকানি চুকাইনগর ইউনিয়নের গ্রামে।স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, রাণীরপাড়া গ্রামের মরিচ চাষী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় ২৫ বছর আগে রেহেনা খাতুনের (৩৭) বিয়ে হয়। রেহেনার বাবার বাড়ি সোনাতলার পাকুল্লা গ্রামে, পাঁচ ছেলেমেয়ের সংসার। রফিকুল মরিচ চাষের পাশাপাশি টুকটাক ব্যবসা করেন। এর মধ্যে কয়েক বছর আগে রেহেনার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে যান মহিদুল। এরপর তারা দুজনে আলাদা সংসার বাঁধার স্বপ্ন দেখেন।স্থানীয়রা জানান, মহিদুল ও রেহেনার পরকীয়া প্রেম নিয়ে তাদের পারিবারিকভাবে কয়েকদফা সালিশও হয়েছে। তবে এলাকায় বেশি মানুষ এই খবর জানতেন না। গোপনে মহিদুলকে একাধিকবার বকাবকিও করেছিলেন নিহত রফিকুল।পুলিশ জানায়, এক সময় রেহেনা ও মহিদুলের ঘর বাধার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু বাধা হয়ে ছিলেন রফিকুল,এই কারণে তারা রফিকুলকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেন। তবে মহিদুলের একার পক্ষে রফিকুলকে হত্যা করা সহজ ছিল না, এ কারণে রেহেনার সহযোগিতা চান মহিদুল। এরপর তাদের দলে ভেরানো জন্য রেহেনার তৃতীয় সন্তান জসিম এবং ভাগ্নে শাকিলকে বোঝানো হয়। জসিম সহজ-সহল হওয়ার কারণে তার বাবা তাকে প্রায়-ই বকাঝকা করতেন,এই কারণে বাবার প্রতি ক্ষোভ ছিল তার। ছেলের এই সরলতার সুযোগ কাজে লাগান রেহেনা,কৌশলে তাকে দলে নেন। আর শকিলের সাথে অন্য আরেকটি কারণে রেহেনা ও মহিদুলের ভালো সম্পর্ক, ওই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তাদের পরিকল্পনায় শাকিলকে থাকতে বলেন।মহিদুল ও রেহেনা নিজেদের মধ্যে কয়েকদফা হত্যার পরিকল্পনা করেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয় ২০১৯ সালের ১৪ জুন রাতে। রফিকুলকে রাতে খেতে দেওয়া হয়। এর আগে মহিদুল স্থানীয় বাজার থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে এনে রেহেনাকে দেন,রেহেনা ঘুমের ওষুধ তরকারির সাথে মিশিয়ে রফিকুলকে খেতে দেন। রফিকুল তরকারি খাওয়ার পর পরই ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর রাত গভীর হলে মহিদুল ও জসিম মিলে রফিকুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তারা শাকিলকে ডেকে নেন,এরপর রফিকুলের লাশ বস্তার মধ্যে তোলা হয়। গভীর রাতে বস্তাবন্দি লাশ মহিদুলের ইজারা নেওয়া জমিতে প্রায় চার ফুট গভীর করে পুঁতে রাখা হয়।সোনাতলা থানার পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার পরে গত বছরের ১লা জুলাই রফিকুলের ভাই শফিকুল সোনাতলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন তার ভাই নিখোঁজ হয়েছেন। গত ১৪ জুন থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার কুদরত-ই খুদা শুভ জানান, ওই জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে মহিদুলের সঙ্গে রেহেনার পরকীয়া প্রেম রয়েছে, এ কারণে শুক্রবার সকালে মহিদুলকে আটক করা হয়। প্রথমে তিনি পরকীয়ার কথা স্বীকার করে,ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে মহিদুল হত্যাকাণ্ডের কথাও স্বীকার করেন। পরে তার কাছে রফিকুল হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ননা উঠে আসে। পরে এই হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে রেহেনা, শাকিল ও জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।এরপর শুক্রবার তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় পুলিশ। সোনাতলার ভেলুরপাড়া স্টেশন থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার উত্তরে রাণীরপাড়া। রেললাইনের পূর্ব পাশে রেলওয়ের জমি, ওই জমি রেলওয়ের কাছ থেকে ইজারা নিয়েছেন মহিদুল। রফিকুলকে এখানে পুঁতে রাখার তথ্য পাওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়। খনন শুরু হয় সকাল ১১ টায়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে খননে দুপুর একটার দিকে রফিকুলের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে ১১ মাসের ব্যবধানে পঁচে-গলে গেছে তার লাশ।উদ্ধার অভিযানে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা নেতৃত্ব দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ আছলাম আলীসহ পুলিশের বিভিন্ন শাখার উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা। লাশ উদ্ধারের খবরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে আবার ঘটনাস্থলে লাশ উদ্ধার কার্যক্রম দেখতে আসেন। এ সময় সেখানে আশপাশের কয়েক গ্রামের হাজার হাজার লোক জড়ো হন। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।সহকারি পুলিশ সুপার কুদরত-ই খুদা শুভ শুক্রবার রাতে একুশে সংবাদ কে বলেন, শুক্রবার রফিকুল ইসলাম বড় ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাতলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এখানে গ্রেপ্তার চারজনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে কয়েকজনকে। গ্রেপ্তারকৃত চারজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

সর্বশেষ
অপরাধ বিভাগের সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত


Copyright ©  BijoyBanglaBD24.com                                 Developed by VIP TECHNOLOGY